
আপনার প্রয়োজন আল্লাহ কে বলুন (হার্ডকভার)
Related Products

হিসনুল মুসলিম বড় সাইজ কলিকাতা ফন্ট
হিসনুল মুসলিম হলো কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক দোআ ও যিকিরের সংকলন, যা দৈনন্দিন জীবনে মুসলমানদের জন্য সহজে অনুসরণযোগ্য ও অত্যন্ত কার্যকর।

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (পেপারব্যাক)

আরকানুল ঈমান (পেপারব্যাক)

আল-কুরআনুল কারীম - বিশেষ ফযীলতপূর্ণ আয়াত, ৪৫টি সূরা ও দু‘আ (পেপারব্যাক)
দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কুরআনের আয়াত, গুরুত্বপূর্ণ সূরা এবং সহিহ দু‘আ সহজে শিখতে ও আমল করতে পারেন।
একবার নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবাদের বললেন, “আল্লাহর কোনো অনুগত বান্দা যদি দুটো কাজ নিয়মিত করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। কাজ দুটো খুবই সহজ, কিন্তু কম লোকই তা করে।” . সাহাবারা বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! সে কাজ দুটো কী কী?” . নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, “(প্রথম কাজটি হলো) প্রত্যেক সালাতের পর দশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, দশ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এবং দশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা। (পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর বললে) এগুলো মুখে বলা হবে একশো পঞ্চাশ বার, কিন্তু মীযানে (পরকালের ওজনের পাল্লায়) তা দেড় হাজার বার হিসেবে গণ্য হবে। (দ্বিতীয় কাজটি হলো) ঘুমোতে যাওয়ার আগে চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’, তেত্রিশ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এবং তেত্রিশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা। এভাবে মুখে বলা হবে মাত্র একশো বার, কিন্তু মীযানে তা এক হাজার বার হিসেবে গন্য হবে।” . সাহাবারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এটি কীভাবে সম্ভব—কাজ দুটো এত সহজ—কিন্তু খুব কম লোকই তা করে?” . নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “কেউ ঘুমোতে গেলে এগুলো বলার আগেই শয়তান এসে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আর সালাতের পর এগুলো বলার আগেই, শয়তান এসে তাকে কোনো একটি প্রয়োজনের কথা মনে করিয়ে দেয়। (তাই খুব কম মানুষই এর ওপর আমল করতে পারে)।” যিকির। শব্দটা তিন অক্ষরের হলেও এর বিস্তৃতি অত্যন্ত ব্যাপক। বিশ্বাসীদের জীবনে যিকির এক মহাসম্পদ। কারণ এই যিকিরই মুমিনদের স্রষ্টার নিকটবর্তী করে দেয়। যিকির এমন এক অস্ত্র, যা দিয়ে শয়তানকে বধ করা যায়। যিকির এমন এক ঢাল, যা দিয়ে কু-প্রবৃত্তিকে মোকাবিলা করা যায়। . ব্যাপারটা দুঃখজনক হলেও সত্য—বস্তুবাদী সভ্যতার পাল্লায় পড়ে আজ মুসলিমরাও ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গান-বাদ্য-মুভির পেছনে অধিকাংশ সময় ব্যয় করছে। আল্লাহর যিকির আর ভোগবাদী সভ্যতার উপরকরণের পার্থক্য ব্যাপক। ভোগবাদী সভ্যতার উপকরণগুলো আমাদের অন্তরকে কেবল বিক্ষিপ্তই করে। কিন্তু যিকির মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। ব্যথাতুর হৃদয়কে নির্মল করে। আর অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর হাবীবের ভালোবাসা জাগ্রত করে। . মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পন্থা হলো যিকির। একদিকে যা ব্যাথাতুর হৃদয়কে নির্মল করে, অপরদিকে তা পরকালীন নাজাত নিশ্চিত করে। যিকির মুমিনদের অন্তরে তাকওয়াকে সঞ্চারিত করে। পার্থিব লোভ-লালসাকে দূরীভূত করে। . আফসোসের বিষয় হলেও সত্য—এই যিকির নিয়েই মুসলিম সমাজ আজ দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে বিষয়টিকে অবহেলা করা হচ্ছে। অপরদিকে যিকিরের নামে এমন কিছু কথার প্রচলন করা হচ্ছে, যার সাথে কোরআন-হাদীসের কোনো সম্পর্ক নেই। আবার সেসব মিথ্যে যিকিরকে প্রতিষ্ঠিত করতে নতুন নতুন হাদীস বানানো হচ্ছে। . যিকির নিয়ে আমাদের সালাফগণ বিভিন্ন সময়ে কলম ধরেছেন। উম্মাহকে সচেতন করেছেন। কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক যিকিরগুলো একত্রিত করে কিতাব রচনা করেছেন। ঠিক তেমনই এক কিতাবের নাম ‘আল-কালিমুত তাইয়িব’। ‘কালিমুত তাইয়িব’ গ্রন্থে লেখক এমন সব যিকির একত্রিত করেছেন, যা কোরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে। বইটির লেখক ইবনু তাইমিয়া। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)। ইবনু তাইমিয়াকে নতুন করে পরিচয় করে দেওয়ার কিছুই নেই। ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম ইবনু তাইমিয়া। তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে অবিস্মরণীয় প্রতিভার নাম ইবনু তাইমিয়া। . শাইখুল ইসলামের ‘আল-কালিমুত তাইয়িব’ গ্রন্থটির অনুবাদ প্রকাশ করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমরা সেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাদেরকে দয়া করে কাজটি সমাপ্ত করার তাওফীক দান করেছেন। বইটির বিষয়বস্তুর প্রতি লক্ষ রেখে এর নাম দেওয়া হয়েছে “আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন”। ইনশাআল্লাহ অতি শীঘ্রই বইটি পৌঁছে যাবে আপনাদের হাতে।
ইমাম ইবনু তাইময়্যা (রহিমাহুল্লাহ)
No author biography available.
View all books by this author →Co-authors
একবার নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবাদের বললেন, “আল্লাহর কোনো অনুগত বান্দা যদি দুটো কাজ নিয়মিত করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। কাজ দুটো খুবই সহজ, কিন্তু কম লোকই তা করে।” . সাহাবারা বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! সে কাজ দুটো কী কী?” . নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, “(প্রথম কাজটি হলো) প্রত্যেক সালাতের পর দশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, দশ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এবং দশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা। (পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর বললে) এগুলো মুখে বলা হবে একশো পঞ্চাশ বার, কিন্তু মীযানে (পরকালের ওজনের পাল্লায়) তা দেড় হাজার বার হিসেবে গণ্য হবে। (দ্বিতীয় কাজটি হলো) ঘুমোতে যাওয়ার আগে চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’, তেত্রিশ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এবং তেত্রিশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা। এভাবে মুখে বলা হবে মাত্র একশো বার, কিন্তু মীযানে তা এক হাজার বার হিসেবে গন্য হবে।” . সাহাবারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এটি কীভাবে সম্ভব—কাজ দুটো এত সহজ—কিন্তু খুব কম লোকই তা করে?” . নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “কেউ ঘুমোতে গেলে এগুলো বলার আগেই শয়তান এসে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আর সালাতের পর এগুলো বলার আগেই, শয়তান এসে তাকে কোনো একটি প্রয়োজনের কথা মনে করিয়ে দেয়। (তাই খুব কম মানুষই এর ওপর আমল করতে পারে)।” যিকির। শব্দটা তিন অক্ষরের হলেও এর বিস্তৃতি অত্যন্ত ব্যাপক। বিশ্বাসীদের জীবনে যিকির এক মহাসম্পদ। কারণ এই যিকিরই মুমিনদের স্রষ্টার নিকটবর্তী করে দেয়। যিকির এমন এক অস্ত্র, যা দিয়ে শয়তানকে বধ করা যায়। যিকির এমন এক ঢাল, যা দিয়ে কু-প্রবৃত্তিকে মোকাবিলা করা যায়। . ব্যাপারটা দুঃখজনক হলেও সত্য—বস্তুবাদী সভ্যতার পাল্লায় পড়ে আজ মুসলিমরাও ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গান-বাদ্য-মুভির পেছনে অধিকাংশ সময় ব্যয় করছে। আল্লাহর যিকির আর ভোগবাদী সভ্যতার উপরকরণের পার্থক্য ব্যাপক। ভোগবাদী সভ্যতার উপকরণগুলো আমাদের অন্তরকে কেবল বিক্ষিপ্তই করে। কিন্তু যিকির মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। ব্যথাতুর হৃদয়কে নির্মল করে। আর অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর হাবীবের ভালোবাসা জাগ্রত করে। . মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পন্থা হলো যিকির। একদিকে যা ব্যাথাতুর হৃদয়কে নির্মল করে, অপরদিকে তা পরকালীন নাজাত নিশ্চিত করে। যিকির মুমিনদের অন্তরে তাকওয়াকে সঞ্চারিত করে। পার্থিব লোভ-লালসাকে দূরীভূত করে। . আফসোসের বিষয় হলেও সত্য—এই যিকির নিয়েই মুসলিম সমাজ আজ দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে বিষয়টিকে অবহেলা করা হচ্ছে। অপরদিকে যিকিরের নামে এমন কিছু কথার প্রচলন করা হচ্ছে, যার সাথে কোরআন-হাদীসের কোনো সম্পর্ক নেই। আবার সেসব মিথ্যে যিকিরকে প্রতিষ্ঠিত করতে নতুন নতুন হাদীস বানানো হচ্ছে। . যিকির নিয়ে আমাদের সালাফগণ বিভিন্ন সময়ে কলম ধরেছেন। উম্মাহকে সচেতন করেছেন। কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক যিকিরগুলো একত্রিত করে কিতাব রচনা করেছেন। ঠিক তেমনই এক কিতাবের নাম ‘আল-কালিমুত তাইয়িব’। ‘কালিমুত তাইয়িব’ গ্রন্থে লেখক এমন সব যিকির একত্রিত করেছেন, যা কোরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে। বইটির লেখক ইবনু তাইমিয়া। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)। ইবনু তাইমিয়াকে নতুন করে পরিচয় করে দেওয়ার কিছুই নেই। ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম ইবনু তাইমিয়া। তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে অবিস্মরণীয় প্রতিভার নাম ইবনু তাইমিয়া। . শাইখুল ইসলামের ‘আল-কালিমুত তাইয়িব’ গ্রন্থটির অনুবাদ প্রকাশ করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমরা সেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাদেরকে দয়া করে কাজটি সমাপ্ত করার তাওফীক দান করেছেন। বইটির বিষয়বস্তুর প্রতি লক্ষ রেখে এর নাম দেওয়া হয়েছে “আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন”। ইনশাআল্লাহ অতি শীঘ্রই বইটি পৌঁছে যাবে আপনাদের হাতে।