
উমার ইবন আল-খাত্তাব: জীবন ও শাসন (১ম ও ২য় খণ্ড) (হার্ডকভার)
Related Products

আত্মার পরিচর্যা (পেপারব্যাক)

আখলাকে হাসানা (পেপারব্যাক)
নারী সিরিজ-১

ইসলাম ও আমাদের জীবন-১০ : দৈনন্দিন কাজে প্রিয় নবীর (সা.) প্রিয় দুআ ও আমল (হার্ডকভার)

আল-কুরআনুল কারীম - বিশেষ ফযীলতপূর্ণ আয়াত, ৪৫টি সূরা ও দু‘আ (পেপারব্যাক)
দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কুরআনের আয়াত, গুরুত্বপূর্ণ সূরা এবং সহিহ দু‘আ সহজে শিখতে ও আমল করতে পারেন।
খলিফা উমার (রাঃ) যখন কাউকে দায়িত্ব দিতেন, তখন কঠোর শর্ত আরোপ করতেন—দামি খাবার-জামাকাপড় ব্যবহার নয়, ঘোড়ায় চড়া নয়, আর বিপদে মুসলিমদের বিমুখ করা যাবে না। এসব শর্ত প্রশাসকদের সাধারণ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনে বাধ্য করত।একবার তিনি নিজের মধ্যে অহংকারের ভাব টের পেয়ে মিম্বারে উঠে বললেন, “একসময় আমি খেজুর-আর কিশমিশ খেয়েই দিন পার করতাম। গবাদি পশু চরাতাম।” এইভাবে নিজেকে ছোট করে দেখিয়ে অহংকার থেকে নিজেকে রক্ষা করতেন।তার আল্লাহভীরুতা, নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার জন্য উম্মাহ আজও তার প্রতি ঋণী। তিনি ছিলেন ফিতনার বিরুদ্ধে এক মজবুত দেয়াল। শহিদ হওয়ার পর সেই দেয়াল ভেঙে পড়ে।যিনি একদিন ইসলাম ধ্বংস করতে বের হয়েছিলেন, সেই উমার (রাঃ) হয়ে উঠেছিলেন ইসলামের অন্যতম রক্ষক। আজকের বিপর্যস্ত উম্মাহর জন্য তার জীবনে আছে দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা। ইসলামের ইতিহাসে উমার ইবনুল-খাত্তাব যেন রোমাঞ্চের প্রতিশব্দ। ঠিক যেদিন তরবারি হাতে হত্যা করতে নেমেছিলেন নবীজিকে, সেদিনই ইসলাম বরণ করেন এই লৌহমানব। ঘোরতর শত্রু থেকে এক লহমায় হয়ে ওঠেন ইসলামের অন্যতম শক্তি। নবীজির হাত ধরে জন্ম নিয়েছিল যে মুসলিম-রাষ্ট্র, আবু বাকরের হাতে যে-রাষ্ট্র পার করেছে কৈশোর, উমারের সময়ে সেই ইসলামি রাষ্ট্র যেন ১৮ বছরের টগবগে তরুণ। ব্যক্তিত্বের মূর্ছনা আর নেতৃত্বের মুনশিয়ানায় দিকে দিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রের সীমানা। তার হাতেই প্রতিষ্ঠা পায় রাষ্ট্রীয় নানা অবকাঠামো। বর্তমান সময়ে উম্মাহর এই টালমাটাল অবস্থায় একে সঠিক আইলের উপর রাখতে প্রয়োজন এমনই এক শক্ত ব্যক্তিত্ব। হয়তো তার এই জীবনীর আলোয় বেরিয়ে আসবে তেমনই এক ভবিষ্যৎ নেতা! ইনশাআল্লাহ।
ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি। ফকিহ, রাজনীতিক ও বিশ্বখ্যাত ইতিহাসগবেষক। ইসলামের ইতিহাসের উপর বিশ্লেষণধর্মী তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। এই মহা মনীষী ১৯৬৩ সনে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা বেনগাজিতেই করেন। যৌবনের প্রারম্ভেই গাদ্দাফির প্রহসনের শিকার হয়ে শায়খ সাল্লাবি আট বছর বন্দি থাকেন। মুক্তি পাওয়ার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি সাউদি আরব চলে যান। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও উসুলুদ্দিন বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সনে অনার্স সম্পন্ন করেন। তারপর চলে যান সুদানের উম্মু দুরমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে উসুলুদ্দিন অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ১৯৯৯ সনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘ফিকহুত তামকিন ফিল কুরআনিল কারিম’। ড. আলি সাল্লাবির রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু বিশ্বখ্যাত ফকিহ ও রাজনীতিক ড. ইউসুফ আল কারজাবি। কারজাবির সান্নিধ্য অর্জনে তিনি ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কাতার গমন করেন। নতুন ধারায় সিরাত ও ইসলামি ইতিহাসের তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে ড. আলি সাল্লাবি অনুসন্ধিৎসু পাঠকের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নবিজির পুর্ণাঙ্গ সিরাত, খুলাফায়ে রাশিদিনের জীবনী, উমাইয়া খিলাফত, আব্বাসি খিলাফত, উসমানি খিলাফতের উত্থান-পতনসহ ইসলামি ইতিহাসের সাড়ে তেরোশ বছরের ইতিহাস তিনি রচনা করেছেন। তা ছাড়া ইসলামি ইতিহাসে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করা ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি আলাদা আলাদা গ্রন্থ রচনা করেছেন। ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবির রচনা শুধু ইতিহাসের গতানুগতিক ধারাবর্ণনা নয়; তাঁর রচনায় রয়েছে বিশুদ্ধতার প্রামাণিক গ্রহণযোগ্যতা, জটিল-কঠিন বিষয়ের সাবলীল উপস্থাপনা ও ইতিহাসের আঁকবাঁকের সঙ্গে সমকালীন অবস্থার তুলনীয় শিক্ষা। এই মহা মনীষী সিরাত, ইতিহাস, ফিকহ ও উলুমুল কুরআনের উপর আশির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচনাবলি ইংরেজি, তুর্কি, ফরাসি, উর্দু ও বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়ে পৃথিবীর জ্ঞানগবেষকদের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘ, নিরাপদ ও সুস্থ জীবন দান করুন। আমিন। — সালমান মোহাম্মদ লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক ২৪ মার্চ ২০২০
View all books by this author →ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি। ফকিহ, রাজনীতিক ও বিশ্বখ্যাত ইতিহাসগবেষক। ইসলামের ইতিহাসের উপর বিশ্লেষণধর্মী তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। এই মহা মনীষী ১৯৬৩ সনে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা বেনগাজিতেই করেন। যৌবনের প্রারম্ভেই গাদ্দাফির প্রহসনের শিকার হয়ে শায়খ সাল্লাবি আট বছর বন্দি থাকেন। মুক্তি পাওয়ার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি সাউদি আরব চলে যান। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও উসুলুদ্দিন বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সনে অনার্স সম্পন্ন করেন। তারপর চলে যান সুদানের উম্মু দুরমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে উসুলুদ্দিন অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ১৯৯৯ সনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘ফিকহুত তামকিন ফিল কুরআনিল কারিম’। ড. আলি সাল্লাবির রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু বিশ্বখ্যাত ফকিহ ও রাজনীতিক ড. ইউসুফ আল কারজাবি। কারজাবির সান্নিধ্য অর্জনে তিনি ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কাতার গমন করেন। নতুন ধারায় সিরাত ও ইসলামি ইতিহাসের তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে ড. আলি সাল্লাবি অনুসন্ধিৎসু পাঠকের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নবিজির পুর্ণাঙ্গ সিরাত, খুলাফায়ে রাশিদিনের জীবনী, উমাইয়া খিলাফত, আব্বাসি খিলাফত, উসমানি খিলাফতের উত্থান-পতনসহ ইসলামি ইতিহাসের সাড়ে তেরোশ বছরের ইতিহাস তিনি রচনা করেছেন। তা ছাড়া ইসলামি ইতিহাসে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করা ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি আলাদা আলাদা গ্রন্থ রচনা করেছেন। ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবির রচনা শুধু ইতিহাসের গতানুগতিক ধারাবর্ণনা নয়; তাঁর রচনায় রয়েছে বিশুদ্ধতার প্রামাণিক গ্রহণযোগ্যতা, জটিল-কঠিন বিষয়ের সাবলীল উপস্থাপনা ও ইতিহাসের আঁকবাঁকের সঙ্গে সমকালীন অবস্থার তুলনীয় শিক্ষা। এই মহা মনীষী সিরাত, ইতিহাস, ফিকহ ও উলুমুল কুরআনের উপর আশির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচনাবলি ইংরেজি, তুর্কি, ফরাসি, উর্দু ও বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়ে পৃথিবীর জ্ঞানগবেষকদের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘ, নিরাপদ ও সুস্থ জীবন দান করুন। আমিন। — সালমান মোহাম্মদ লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক ২৪ মার্চ ২০২০
View all books →খলিফা উমার (রাঃ) যখন কাউকে দায়িত্ব দিতেন, তখন কঠোর শর্ত আরোপ করতেন—দামি খাবার-জামাকাপড় ব্যবহার নয়, ঘোড়ায় চড়া নয়, আর বিপদে মুসলিমদের বিমুখ করা যাবে না। এসব শর্ত প্রশাসকদের সাধারণ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনে বাধ্য করত।একবার তিনি নিজের মধ্যে অহংকারের ভাব টের পেয়ে মিম্বারে উঠে বললেন, “একসময় আমি খেজুর-আর কিশমিশ খেয়েই দিন পার করতাম। গবাদি পশু চরাতাম।” এইভাবে নিজেকে ছোট করে দেখিয়ে অহংকার থেকে নিজেকে রক্ষা করতেন।তার আল্লাহভীরুতা, নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার জন্য উম্মাহ আজও তার প্রতি ঋণী। তিনি ছিলেন ফিতনার বিরুদ্ধে এক মজবুত দেয়াল। শহিদ হওয়ার পর সেই দেয়াল ভেঙে পড়ে।যিনি একদিন ইসলাম ধ্বংস করতে বের হয়েছিলেন, সেই উমার (রাঃ) হয়ে উঠেছিলেন ইসলামের অন্যতম রক্ষক। আজকের বিপর্যস্ত উম্মাহর জন্য তার জীবনে আছে দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা। ইসলামের ইতিহাসে উমার ইবনুল-খাত্তাব যেন রোমাঞ্চের প্রতিশব্দ। ঠিক যেদিন তরবারি হাতে হত্যা করতে নেমেছিলেন নবীজিকে, সেদিনই ইসলাম বরণ করেন এই লৌহমানব। ঘোরতর শত্রু থেকে এক লহমায় হয়ে ওঠেন ইসলামের অন্যতম শক্তি। নবীজির হাত ধরে জন্ম নিয়েছিল যে মুসলিম-রাষ্ট্র, আবু বাকরের হাতে যে-রাষ্ট্র পার করেছে কৈশোর, উমারের সময়ে সেই ইসলামি রাষ্ট্র যেন ১৮ বছরের টগবগে তরুণ। ব্যক্তিত্বের মূর্ছনা আর নেতৃত্বের মুনশিয়ানায় দিকে দিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রের সীমানা। তার হাতেই প্রতিষ্ঠা পায় রাষ্ট্রীয় নানা অবকাঠামো। বর্তমান সময়ে উম্মাহর এই টালমাটাল অবস্থায় একে সঠিক আইলের উপর রাখতে প্রয়োজন এমনই এক শক্ত ব্যক্তিত্ব। হয়তো তার এই জীবনীর আলোয় বেরিয়ে আসবে তেমনই এক ভবিষ্যৎ নেতা! ইনশাআল্লাহ।





