
ফুল বাগিচার বুলবুলি (হার্ডকভার)
Related Products
ঘটনার পটভূমি তখন মক্কায় ইসলাম নতুনভাবে ছড়াতে শুরু করেছে। মুসলমানরা সংখ্যায় কম এবং কুরাইশদের অনেকেই ইসলামের বিরোধিতা করছিল। এই সময়ে উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ইসলামের কট্টর বিরোধী ছিলেন এবং তিনি মুসলমানদের উপর অত্যাচার করতেন। একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হত্যা করবেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি তলোয়ার নিয়ে বের হন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কোথায় যাচ্ছেন। উমর (রা.) জানান তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে হত্যা করতে যাচ্ছেন। তখন সেই ব্যক্তি বলেন— “তুমি আগে নিজের ঘরের খবর নাও।” বোনের বাড়িতে ঘটনা উমর (রা.) জানতে পারেন যে তাঁর নিজের বোন এবং দুলাভাই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এতে তিনি খুব রাগান্বিত হয়ে সরাসরি তাদের বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন তারা কোরআনের আয়াত পড়ছেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন এক সাহাবি— Khabbab ibn al-Aratt (খাব্বাব ইবনে আরাত রা.)। উমর (রা.) ঘরে ঢুকতেই সবাই ভয় পেয়ে যায়। খাব্বাব (রা.) লুকিয়ে পড়েন এবং কোরআনের যে পাণ্ডুলিপি ছিল সেটিও লুকিয়ে ফেলা হয়। উমর (রা.) রাগের মাথায় বোন ও দুলাভাইকে মারধর করেন। এতে তাঁর বোনের শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যায়। হৃদয়ের পরিবর্তন বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে উমর (রা.) কিছুটা নরম হয়ে যান। তখন তিনি জানতে চান তারা কী পড়ছিল। বোন প্রথমে বলেন— “তুমি অপবিত্র অবস্থায় আছো, আগে পবিত্র হও।” উমর (রা.) গোসল বা ওজু করে ফিরে আসেন। তারপর তিনি কোরআনের আয়াত পড়তে শুরু করেন। অনেক বর্ণনায় বলা হয় তিনি সূরা ত্বা-হা-র আয়াত পড়েছিলেন। সেই আয়াত পড়ে তাঁর হৃদয় গভীরভাবে প্রভাবিত হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন এই বাণী মানুষের লেখা নয়। ইসলাম গ্রহণ এরপর তিনি জানতে চান রাসুলুল্লাহ (সা.) কোথায় আছেন। তখন তাকে বলা হয় মুসলমানরা দারুল আরকাম নামের একটি স্থানে অবস্থান করছেন। উমর (রা.) সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন Muhammad (রাসুলুল্লাহ সা.)-এর সাথে। সেখানে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এই ঘটনার গুরুত্ব উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। কারণ— তিনি ছিলেন সাহসী ও প্রভাবশালী নেতা তাঁর ইসলাম গ্রহণে মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পায় এরপর মুসলমানরা অনেক বেশি সাহসের সাথে প্রকাশ্যে নামাজ পড়তে শুরু করেন পরে তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হন এবং তাঁর শাসনামলে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
মুহাম্মাদ আম্মারুল হক
আম্মারুল হক। জন্মগ্রহণ করেছেন ১৯৯৯ সালের ৫ মে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত বাঁশখালী থানায়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে সম্পন্ন করেছেন কুরআনুল কারীমের হিফজ। এরপর কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রী তাকমিল সম্পন্ন করেছেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম, হাটাহাজারী মাদ্রাসায়। মাদরাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি পড়েছেন জেনারেল ধারায়ও। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে বর্তমানে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তরুণ উদীয়মান এই লেখক ও চিন্তক ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছেন বইজগতে। তার রচিত, অনুদিত ও সম্পাদিত বই দশের ঘর ছাড়িয়েছে। একাধিক বিষয়ে কাজ করলেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন গবেষণাধর্মী লেখায়। (সূত্র : তারুণ্য প্রকাশন)
View all books by this author →মুহাম্মাদ আম্মারুল হক
আম্মারুল হক। জন্মগ্রহণ করেছেন ১৯৯৯ সালের ৫ মে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত বাঁশখালী থানায়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে সম্পন্ন করেছেন কুরআনুল কারীমের হিফজ। এরপর কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রী তাকমিল সম্পন্ন করেছেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম, হাটাহাজারী মাদ্রাসায়। মাদরাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি পড়েছেন জেনারেল ধারায়ও। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে বর্তমানে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তরুণ উদীয়মান এই লেখক ও চিন্তক ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছেন বইজগতে। তার রচিত, অনুদিত ও সম্পাদিত বই দশের ঘর ছাড়িয়েছে। একাধিক বিষয়ে কাজ করলেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন গবেষণাধর্মী লেখায়। (সূত্র : তারুণ্য প্রকাশন)
View all books →ঘটনার পটভূমি তখন মক্কায় ইসলাম নতুনভাবে ছড়াতে শুরু করেছে। মুসলমানরা সংখ্যায় কম এবং কুরাইশদের অনেকেই ইসলামের বিরোধিতা করছিল। এই সময়ে উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ইসলামের কট্টর বিরোধী ছিলেন এবং তিনি মুসলমানদের উপর অত্যাচার করতেন। একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হত্যা করবেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি তলোয়ার নিয়ে বের হন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কোথায় যাচ্ছেন। উমর (রা.) জানান তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে হত্যা করতে যাচ্ছেন। তখন সেই ব্যক্তি বলেন— “তুমি আগে নিজের ঘরের খবর নাও।” বোনের বাড়িতে ঘটনা উমর (রা.) জানতে পারেন যে তাঁর নিজের বোন এবং দুলাভাই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এতে তিনি খুব রাগান্বিত হয়ে সরাসরি তাদের বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন তারা কোরআনের আয়াত পড়ছেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন এক সাহাবি— Khabbab ibn al-Aratt (খাব্বাব ইবনে আরাত রা.)। উমর (রা.) ঘরে ঢুকতেই সবাই ভয় পেয়ে যায়। খাব্বাব (রা.) লুকিয়ে পড়েন এবং কোরআনের যে পাণ্ডুলিপি ছিল সেটিও লুকিয়ে ফেলা হয়। উমর (রা.) রাগের মাথায় বোন ও দুলাভাইকে মারধর করেন। এতে তাঁর বোনের শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যায়। হৃদয়ের পরিবর্তন বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে উমর (রা.) কিছুটা নরম হয়ে যান। তখন তিনি জানতে চান তারা কী পড়ছিল। বোন প্রথমে বলেন— “তুমি অপবিত্র অবস্থায় আছো, আগে পবিত্র হও।” উমর (রা.) গোসল বা ওজু করে ফিরে আসেন। তারপর তিনি কোরআনের আয়াত পড়তে শুরু করেন। অনেক বর্ণনায় বলা হয় তিনি সূরা ত্বা-হা-র আয়াত পড়েছিলেন। সেই আয়াত পড়ে তাঁর হৃদয় গভীরভাবে প্রভাবিত হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন এই বাণী মানুষের লেখা নয়। ইসলাম গ্রহণ এরপর তিনি জানতে চান রাসুলুল্লাহ (সা.) কোথায় আছেন। তখন তাকে বলা হয় মুসলমানরা দারুল আরকাম নামের একটি স্থানে অবস্থান করছেন। উমর (রা.) সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন Muhammad (রাসুলুল্লাহ সা.)-এর সাথে। সেখানে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এই ঘটনার গুরুত্ব উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। কারণ— তিনি ছিলেন সাহসী ও প্রভাবশালী নেতা তাঁর ইসলাম গ্রহণে মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পায় এরপর মুসলমানরা অনেক বেশি সাহসের সাথে প্রকাশ্যে নামাজ পড়তে শুরু করেন পরে তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হন এবং তাঁর শাসনামলে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে।









