
কেন হব অবরোধবাসিনী (পেপারব্যাক)
Select an Option
Related Products
ছোটবেলার একটা গল্প পড়েছিলাম যার নাম \"খ পড়ে তার ভাব-মর্যাদা বুঝতে পারিনি। তবে স্যার যা বুঝিয়েছিলেন তা মোটামুটি ভালোই লেগেছিল। কিন্তু তারপরও কেন যেন পরিতৃপ্ত হতে পারিনি যে, গল্পটির মূল শিক্ষণীয় বিষয়টা কী? তারপর দিন যায় রাত যায় ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকি, কিন্তু গল্পটি আমার মগজ হতে দূর হয় না। তাছাড়া মায়ের বাড়ি একেবারেই গ্রামাঞ্চলে, সেখানে শহরের তেমন কোনো ছোঁয়া ছিল না এখন যেমনভাবে হয়েছে। তখন সেখানে টেলিভিশন, ডিশ এন্টেনা, দৈনিক পত্র-পত্রিকা, মোবাইল ফোনও ছিল না। রেডিও-ক্যাসেটও তেমন একটা ছিল না। পুরো মুন্সিপাড়ায় আমার চাচার একটা রেডিও ছিল। আমার চাচাতো ভাই- বোনেরা, এবাড়ির বাড়ির ছেলেমেয়েরা সবাই সেই রেডিও নিয়ে শীতের দিনে রৌদ্রে বসত খবর শোনার জন্য, কিন্তু আমি কখনোই সেই রেডিওর পাশেও বসিনি। আর বাড়ি হতে কখনো কোথাও বেড়াতে যাইনি। তাই দেশের হালচাল সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। অতঃপর যখন বিবাহ হলো তখন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি যাতায়াতের সুবাদে রাস্তা-ঘাটে কত শত অবলা, সহজ-সরলা মা-বোনদের অবস্থাদৃষ্টে এবং পত্র-পত্রিকা পাঠের মাধ্যমে আমার অবরোধবাসিনী গল্পটির মর্মার্থ বোধগম্য হতে আরম্ভ হয়। ২০০১ সালে রাজশাহীর নওদাপাড়ায় আগমনের পর নানা পত্র-পত্রিকায় নারীবাদী সংগঠনগুলোর তৎপরতা ও নারীদের দুরবস্থা দেখে গল্পটির রহস্য আমা কাছে দিবালোকের ন্যায় প্রস্ফুটিত হল। তাছাড়া আমি মূল গল্পটি বারবার পাঠ করেছি। ফলে গল্পটির মূল তাৎপর্য আমার নিকট পরিষ্কার হয়েছে। ছোটবেলায় গল্পটি আমার কাছে এজন্য পরিষ্কার হচ্ছিল না যে, আমি তখন অন্তত অবরোধ কথাটির অর্থ বুঝি এবং বাসিনী কথাটিরও অর্থ বুঝি, কিন্তু গল্পের সাথে গল্পের মূল আলোচনার কোনো মিল ছিল না। গল্পের নামের সাথে গল্পের ভিতরের ঘটনার কোনোমতেই মিল খুঁজে পেতাম না। এই জন্য ছোটবেলায় গল্পটি ভালোভাবে বুঝতে পারিনি। গল্পের অর্থ বোধগম্য হওয়ার পর থেকে আমি গল্পগুলোকে আমার নিজের মন-মানসিকতা ও চলাফেরার উপর এক প্রকার তাচ্ছিল্য মনে করতাম। বাংলাদেশের লাখো-কোটি পর্দানশিন মা ও বোনের সাথে ঠাঁটা ও উপহাস মনে করতাম। যা দীর্ঘদিন যাবত আমার মনের উপর বোঝা হিসেবে বিরাজ করত। মনের সেই বোঝা হালকা করার উদ্দেশ্যে এবং পর্দানশিন মা বোনের অবস্থান পরিষ্কারের উদ্দেশ্যেই দীর্ঘদিন থেকে বেগম রোকেয়ার অবরোধবাসিনীর উত্তর লেখার ইচ্ছা আমার মনে জাগ্রত হয়। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেই নেক ইচ্ছার ফসলই আপনাদের হাতে। ফালিল্লাহিল হামদ। এই বই পাঠ করে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষ একজন নারীও যদি উপকৃত হয় তাহলে আমি নিজের লেখনি সার্থক মনে করব ইনশা-আল্লাহ।
উম্মে মারিয়াম রাযিয়া বিনতে আযীযুর রহমান
উম্মে মারিয়াম রাবিয়া বিনতে আযীযুর রহমান প্রধান শিক্ষিকা, আল জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ মাদরাসা (বালিকা শাখা), ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী
View all books by this author →উম্মে মারিয়াম রাযিয়া বিনতে আযীযুর রহমান
উম্মে মারিয়াম রাবিয়া বিনতে আযীযুর রহমান প্রধান শিক্ষিকা, আল জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ মাদরাসা (বালিকা শাখা), ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী
View all books →ছোটবেলার একটা গল্প পড়েছিলাম যার নাম \"খ পড়ে তার ভাব-মর্যাদা বুঝতে পারিনি। তবে স্যার যা বুঝিয়েছিলেন তা মোটামুটি ভালোই লেগেছিল। কিন্তু তারপরও কেন যেন পরিতৃপ্ত হতে পারিনি যে, গল্পটির মূল শিক্ষণীয় বিষয়টা কী? তারপর দিন যায় রাত যায় ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকি, কিন্তু গল্পটি আমার মগজ হতে দূর হয় না। তাছাড়া মায়ের বাড়ি একেবারেই গ্রামাঞ্চলে, সেখানে শহরের তেমন কোনো ছোঁয়া ছিল না এখন যেমনভাবে হয়েছে। তখন সেখানে টেলিভিশন, ডিশ এন্টেনা, দৈনিক পত্র-পত্রিকা, মোবাইল ফোনও ছিল না। রেডিও-ক্যাসেটও তেমন একটা ছিল না। পুরো মুন্সিপাড়ায় আমার চাচার একটা রেডিও ছিল। আমার চাচাতো ভাই- বোনেরা, এবাড়ির বাড়ির ছেলেমেয়েরা সবাই সেই রেডিও নিয়ে শীতের দিনে রৌদ্রে বসত খবর শোনার জন্য, কিন্তু আমি কখনোই সেই রেডিওর পাশেও বসিনি। আর বাড়ি হতে কখনো কোথাও বেড়াতে যাইনি। তাই দেশের হালচাল সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। অতঃপর যখন বিবাহ হলো তখন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি যাতায়াতের সুবাদে রাস্তা-ঘাটে কত শত অবলা, সহজ-সরলা মা-বোনদের অবস্থাদৃষ্টে এবং পত্র-পত্রিকা পাঠের মাধ্যমে আমার অবরোধবাসিনী গল্পটির মর্মার্থ বোধগম্য হতে আরম্ভ হয়। ২০০১ সালে রাজশাহীর নওদাপাড়ায় আগমনের পর নানা পত্র-পত্রিকায় নারীবাদী সংগঠনগুলোর তৎপরতা ও নারীদের দুরবস্থা দেখে গল্পটির রহস্য আমা কাছে দিবালোকের ন্যায় প্রস্ফুটিত হল। তাছাড়া আমি মূল গল্পটি বারবার পাঠ করেছি। ফলে গল্পটির মূল তাৎপর্য আমার নিকট পরিষ্কার হয়েছে। ছোটবেলায় গল্পটি আমার কাছে এজন্য পরিষ্কার হচ্ছিল না যে, আমি তখন অন্তত অবরোধ কথাটির অর্থ বুঝি এবং বাসিনী কথাটিরও অর্থ বুঝি, কিন্তু গল্পের সাথে গল্পের মূল আলোচনার কোনো মিল ছিল না। গল্পের নামের সাথে গল্পের ভিতরের ঘটনার কোনোমতেই মিল খুঁজে পেতাম না। এই জন্য ছোটবেলায় গল্পটি ভালোভাবে বুঝতে পারিনি। গল্পের অর্থ বোধগম্য হওয়ার পর থেকে আমি গল্পগুলোকে আমার নিজের মন-মানসিকতা ও চলাফেরার উপর এক প্রকার তাচ্ছিল্য মনে করতাম। বাংলাদেশের লাখো-কোটি পর্দানশিন মা ও বোনের সাথে ঠাঁটা ও উপহাস মনে করতাম। যা দীর্ঘদিন যাবত আমার মনের উপর বোঝা হিসেবে বিরাজ করত। মনের সেই বোঝা হালকা করার উদ্দেশ্যে এবং পর্দানশিন মা বোনের অবস্থান পরিষ্কারের উদ্দেশ্যেই দীর্ঘদিন থেকে বেগম রোকেয়ার অবরোধবাসিনীর উত্তর লেখার ইচ্ছা আমার মনে জাগ্রত হয়। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেই নেক ইচ্ছার ফসলই আপনাদের হাতে। ফালিল্লাহিল হামদ। এই বই পাঠ করে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষ একজন নারীও যদি উপকৃত হয় তাহলে আমি নিজের লেখনি সার্থক মনে করব ইনশা-আল্লাহ।









