
খলিফাতুল মুসলিমিন আলী ইবনু আবি তালিব রা. - দ্বিতীয় খন্ড
Related Products

আবু বকর সিদ্দিক রা. (হার্ডকভার)
মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে পরিশীলিত, গভীর এবং অনুপ্রেরণামূলক একটি কাজ

তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া (হার্ডকভার)

চার বন্ধুর সমুদ্র অভিযান (পেপারব্যাক)

পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের দাওয়াত (হার্ডকভার)
পূর্ববর্তী ২৪ জন নবী রাসূলের দাওয়াত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে
গ্রন্থটির দ্বিতীয় খণ্ড মূলত আলী (রা.)–এর খিলাফতের সবচেয়ে অশান্ত, সংবেদনশীল এবং রাজনৈতিকভাবে জটিল পর্বগুলোকে কেন্দ্র করে রচিত। ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি বিশদ গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সেই সময়ের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়া উম্মাহ, এবং এসব পরিস্থিতিতে আলী (রা.)–এর ন্যায়ভিত্তিক, সংযমী ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব। এ খণ্ডে প্রধানভাবে আলোচিত হয়েছে সিফফিন যুদ্ধের পর তাহকিম ইস্যুর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, খারিজিদের উত্থান, তাদের বিচ্যুত মতবাদ এবং আলী (রা.)–এর সাথে সংঘর্ষের নানা অধ্যায়। পাশাপাশি কূফা–মুখী ইসলামী প্রশাসন পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা, বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সেনাবাহিনী পুনর্গঠন, সামাজিক শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করার তাঁর নীতিগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন—নানা বিশৃঙ্খলা ও বিরোধের মধ্যেও আলী (রা.) সত্যকে আঁকড়ে রাখা, চরম ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা এবং উম্মাহর কল্যাণে অবিচল থেকে কাজ করে গেছেন। তাঁর ভাষণ, উপদেশ, শাসন–নীতির প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিগত ত্যাগ এখানে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। গ্রন্থটির শেষ অংশে আসে আলী (রা.)–এর শাহাদাতের করুণ অধ্যায়—কিভাবে খারিজি মতাদর্শের চরমপন্থা মুসলিম বিশ্বে ভয়াবহ ক্ষত সৃষ্টি করে, এবং কীভাবে আলী (রা.) তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ন্যায়, শান্তি ও ঐক্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন। এই খণ্ড ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাস, খোলাফায়ে রাশেদার উত্তরাধিকার এবং আলী (রা.)–এর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব উপলব্ধির জন্য এক অনন্য ও নির্ভরযোগ্য দলিল।
ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি। ফকিহ, রাজনীতিক ও বিশ্বখ্যাত ইতিহাসগবেষক। ইসলামের ইতিহাসের উপর বিশ্লেষণধর্মী তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। এই মহা মনীষী ১৯৬৩ সনে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা বেনগাজিতেই করেন। যৌবনের প্রারম্ভেই গাদ্দাফির প্রহসনের শিকার হয়ে শায়খ সাল্লাবি আট বছর বন্দি থাকেন। মুক্তি পাওয়ার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি সাউদি আরব চলে যান। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও উসুলুদ্দিন বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সনে অনার্স সম্পন্ন করেন। তারপর চলে যান সুদানের উম্মু দুরমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে উসুলুদ্দিন অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ১৯৯৯ সনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘ফিকহুত তামকিন ফিল কুরআনিল কারিম’। ড. আলি সাল্লাবির রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু বিশ্বখ্যাত ফকিহ ও রাজনীতিক ড. ইউসুফ আল কারজাবি। কারজাবির সান্নিধ্য অর্জনে তিনি ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কাতার গমন করেন। নতুন ধারায় সিরাত ও ইসলামি ইতিহাসের তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে ড. আলি সাল্লাবি অনুসন্ধিৎসু পাঠকের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নবিজির পুর্ণাঙ্গ সিরাত, খুলাফায়ে রাশিদিনের জীবনী, উমাইয়া খিলাফত, আব্বাসি খিলাফত, উসমানি খিলাফতের উত্থান-পতনসহ ইসলামি ইতিহাসের সাড়ে তেরোশ বছরের ইতিহাস তিনি রচনা করেছেন। তা ছাড়া ইসলামি ইতিহাসে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করা ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি আলাদা আলাদা গ্রন্থ রচনা করেছেন। ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবির রচনা শুধু ইতিহাসের গতানুগতিক ধারাবর্ণনা নয়; তাঁর রচনায় রয়েছে বিশুদ্ধতার প্রামাণিক গ্রহণযোগ্যতা, জটিল-কঠিন বিষয়ের সাবলীল উপস্থাপনা ও ইতিহাসের আঁকবাঁকের সঙ্গে সমকালীন অবস্থার তুলনীয় শিক্ষা। এই মহা মনীষী সিরাত, ইতিহাস, ফিকহ ও উলুমুল কুরআনের উপর আশির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচনাবলি ইংরেজি, তুর্কি, ফরাসি, উর্দু ও বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়ে পৃথিবীর জ্ঞানগবেষকদের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘ, নিরাপদ ও সুস্থ জীবন দান করুন। আমিন। — সালমান মোহাম্মদ লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক ২৪ মার্চ ২০২০
View all books by this author →Co-authors
কালান্তর প্রকাশনী (সিলেট)
No publication description available.
View all books from this publication →ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি। ফকিহ, রাজনীতিক ও বিশ্বখ্যাত ইতিহাসগবেষক। ইসলামের ইতিহাসের উপর বিশ্লেষণধর্মী তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। এই মহা মনীষী ১৯৬৩ সনে লিবিয়ার বেনগাজি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা বেনগাজিতেই করেন। যৌবনের প্রারম্ভেই গাদ্দাফির প্রহসনের শিকার হয়ে শায়খ সাল্লাবি আট বছর বন্দি থাকেন। মুক্তি পাওয়ার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি সাউদি আরব চলে যান। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও উসুলুদ্দিন বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সনে অনার্স সম্পন্ন করেন। তারপর চলে যান সুদানের উম্মু দুরমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে উসুলুদ্দিন অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগ থেকে ১৯৯৬ সনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ১৯৯৯ সনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘ফিকহুত তামকিন ফিল কুরআনিল কারিম’। ড. আলি সাল্লাবির রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু বিশ্বখ্যাত ফকিহ ও রাজনীতিক ড. ইউসুফ আল কারজাবি। কারজাবির সান্নিধ্য অর্জনে তিনি ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে কাতার গমন করেন। নতুন ধারায় সিরাত ও ইসলামি ইতিহাসের তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে ড. আলি সাল্লাবি অনুসন্ধিৎসু পাঠকের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নবিজির পুর্ণাঙ্গ সিরাত, খুলাফায়ে রাশিদিনের জীবনী, উমাইয়া খিলাফত, আব্বাসি খিলাফত, উসমানি খিলাফতের উত্থান-পতনসহ ইসলামি ইতিহাসের সাড়ে তেরোশ বছরের ইতিহাস তিনি রচনা করেছেন। তা ছাড়া ইসলামি ইতিহাসে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করা ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি আলাদা আলাদা গ্রন্থ রচনা করেছেন। ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবির রচনা শুধু ইতিহাসের গতানুগতিক ধারাবর্ণনা নয়; তাঁর রচনায় রয়েছে বিশুদ্ধতার প্রামাণিক গ্রহণযোগ্যতা, জটিল-কঠিন বিষয়ের সাবলীল উপস্থাপনা ও ইতিহাসের আঁকবাঁকের সঙ্গে সমকালীন অবস্থার তুলনীয় শিক্ষা। এই মহা মনীষী সিরাত, ইতিহাস, ফিকহ ও উলুমুল কুরআনের উপর আশির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচনাবলি ইংরেজি, তুর্কি, ফরাসি, উর্দু ও বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়ে পৃথিবীর জ্ঞানগবেষকদের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘ, নিরাপদ ও সুস্থ জীবন দান করুন। আমিন। — সালমান মোহাম্মদ লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক ২৪ মার্চ ২০২০
View all books →Co-authors
কালান্তর প্রকাশনী (সিলেট)
No publication description available.
View all books from this publication →গ্রন্থটির দ্বিতীয় খণ্ড মূলত আলী (রা.)–এর খিলাফতের সবচেয়ে অশান্ত, সংবেদনশীল এবং রাজনৈতিকভাবে জটিল পর্বগুলোকে কেন্দ্র করে রচিত। ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি বিশদ গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সেই সময়ের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়া উম্মাহ, এবং এসব পরিস্থিতিতে আলী (রা.)–এর ন্যায়ভিত্তিক, সংযমী ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব। এ খণ্ডে প্রধানভাবে আলোচিত হয়েছে সিফফিন যুদ্ধের পর তাহকিম ইস্যুর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, খারিজিদের উত্থান, তাদের বিচ্যুত মতবাদ এবং আলী (রা.)–এর সাথে সংঘর্ষের নানা অধ্যায়। পাশাপাশি কূফা–মুখী ইসলামী প্রশাসন পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা, বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সেনাবাহিনী পুনর্গঠন, সামাজিক শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করার তাঁর নীতিগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন—নানা বিশৃঙ্খলা ও বিরোধের মধ্যেও আলী (রা.) সত্যকে আঁকড়ে রাখা, চরম ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা এবং উম্মাহর কল্যাণে অবিচল থেকে কাজ করে গেছেন। তাঁর ভাষণ, উপদেশ, শাসন–নীতির প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিগত ত্যাগ এখানে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। গ্রন্থটির শেষ অংশে আসে আলী (রা.)–এর শাহাদাতের করুণ অধ্যায়—কিভাবে খারিজি মতাদর্শের চরমপন্থা মুসলিম বিশ্বে ভয়াবহ ক্ষত সৃষ্টি করে, এবং কীভাবে আলী (রা.) তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ন্যায়, শান্তি ও ঐক্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন। এই খণ্ড ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাস, খোলাফায়ে রাশেদার উত্তরাধিকার এবং আলী (রা.)–এর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব উপলব্ধির জন্য এক অনন্য ও নির্ভরযোগ্য দলিল।
