
সফরে হিজায
Related Products

অনুসন্ধান (পেপারব্যাক)
সংশয়-সন্দেহের দোলাচলকে বিদায় করার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আর জ্ঞানার্জনের প্রথম ধাপ হচ্ছে অনুসন্ধান।

অনেক আঁধার পেরিয়ে (পেপারব্যাক)

অপারেশন ফারাক্কা (হার্ডকভার)
এটি ডুয়েইন ইভান্সের রচিত মুল বই 'North from Calcutta' বই এর অনুবাদ। পাঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক স্ট্র্যাটেজির জটিল দিকগুলো সহজে বুঝতে পারবেন

আন্দালুসের ইতিহাস (দুই খণ্ড) (হার্ডকভার)
স্পেনের মুসলিম শাসনব্যবস্থার প্রায় আট শত বছরের গৌরবময় ইতিহাস

আল কুরআনের গাণিতিক মুজিজা (পেপারব্যাক)
মোঃ মতিউর রহমান

ইমাম বুখারির দেশে (হার্ডকভার)

ইমাম শামিল ও চেচনিয়া-ককেশাসের ইতিহাস (হার্ডকভার)

ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যনীতি
মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানী (হাফিজাহুল্লাহ)
বইটিতে অর্থনৈতিক মতবাদ, ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং, শেয়ার বাজার, বিনিয়োগ, বীমা ও সরকারী অর্থায়নসহ বিভিন্ন আর্থিক নীতিমালা সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
পৃথিবীর প্রতিজন মুমিন ও মুসলিমের চির আকাঙ্ক্ষিত এক বাসনা পবিত্র হজের সফর। দুনিয়ার সমস্ত প্রান্ত থেকে শত শত বছর ধরে লাখো-কোটি মুসলিম নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে হাজিরা দেন কাবার প্রাঙ্গণে। মুখরিত হয়ে ওঠে তাদের মুখ ও হৃদয়ের ধ্বনি—লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। আবার হজ শেষে দেশে ফিরে সেই পবিত্র সফরের স্মৃতিকে নিয়ে তাদের মধ্যে থাকে বিহ্বলতা, প্রিয়জনকে শোনানোর গভীর আকুতি। তাদের কেউ কেউ হৃদয়ের সবটুকু আবেগ-বিহ্বলতা দিয়ে সফরনামাও লিখতে বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় ভারত উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদি রাহি. তার পবিত্র হজের ভ্রমণবৃত্তান্ত নিয়ে লিখেছেন—সফরে হিজায। বইটি লেখার প্রায় এক শতাব্দীকাল পেরিয়ে গেছে! তখন যেহেতু এরোপ্লেন-জাতীয় কিছুতে সফর এত সহজলভ্য ছিল না, তাই লেখককে বোম্বে থেকে সমুদ্রপথে হজের সফরে যেতে হয়েছিল। শতবর্ষ আগের জাহাজপথে দীর্ঘ যাত্রার ভ্রমণ, সেই সাথে পবিত্র কাবাকে দেখার তীব্র এক মন-কেমন করা অনুভূতি, আবার হজশেষে প্রিয়তম কাবাকে রেখে আসা—সব মিলেমিশে এই দার্শনিক সফরনামাটি হয়ে উঠেছে অনন্য এক ক্লাসিক! শতাব্দীকাল আগের এই হজের সফরনামা শুধু একটি সফরনামাতেই সীমাবদ্ধ নয়! বরং এরও বাইরে বইটি হয়ে উঠেছে শতবর্ষ পুরোনো ইতিহাসের এক প্রামাণ্য দলিল। তখনকার মানুষেরা কিভাবে হজে যেত, তাদের সাথে সৌদি সরকারের আচরণনীতি, পবিত্র মক্কা-মদিনার পথঘাট এবং পবিত্র মসজিদগুলোর তখনকার জৌলুস কেমন ছিল, তাও বিবৃত হয়েছে একজন প্রত্যক্ষ ইতিহাসবিদের হাতে। সাইয়েদ সুলাইমান নদভি রাহি. বইটি সম্পর্কে লিখেন—’এ সফরনামার আসল সৌন্দর্য ও প্রকৃত মর্যাদার বিষয় দুটি : এক. শিল্পকুশলতা। লেখক বইয়ে সাবলীলতার পূর্ণ সৌন্দর্য সফলভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন—সহজ শব্দ, সাবলীল বাক্যগঠন, এরপর কাব্যিক কল্পনার মিশ্রণে। এজন্য সাহিত্যের আঙ্গিকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। দুই. সেসব উপলব্ধি ও অভিব্যক্তি, যা কিতাবের ছত্রে ছত্রে পরিলক্ষিত হয়। মনে হয়, অনুভূতিপ্রবণ লেখক কাগজের বুকে হৃদয় নিংড়ে সবটাই পাঠকের সামনে পরিবেশন করে দিয়েছেন। আমি এটাও হিজায সফরেরই বরকত মনে করি, তার কলম দিলের দোভাষীর ভূমিকা পালন করেছে।’ হজের সফরের বর্ণনার পাশাপাশি লেখক যাত্রাপথে যা দেখেছেন, দেখতে দেখতে ভাবনায় যা এসেছে এবং মদিনার অলিগলিতে রাসুলের স্মৃতিধন্য শহরে হাঁটতে গিয়ে আরও যা যা ভেবেছিলেন, সেসব ভাবনাদের হৃদয়ের সব ব্যাকুলতা দিয়ে তিনি তুলে এনেছেন বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে। প্রিয়তম রাসুলের শহরে হাঁটতে গিয়ে লেখকের হৃদয়ে অলৌকিক যেসব অনুভূতি হয়েছে, হয়তো তা যেকোনো মুমিনের জন্যও স্বাভাবিক! কিন্তু লেখনীর ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে পারার যে অনন্যতা—তা কজনের থাকে! সফরে হিজাযের আশ্চর্য দীপ্তিময়তার অনেকটা ঠিক এখানেও ফুটে এসেছে—লেখকের বর্ণনাভঙ্গি আর হৃদয়গ্রাহী এক গদ্যের মিশেলে। মূল বইটি লেখা হয়েছিল উরদুতে। মলাটবদ্ধ হওয়ার আগে অবশ্য ধারাবাহিকভাবে পত্রিকাতেও ছাপা হয়েছিল। দরিয়াবাদি রাহি.-এর উরদু গদ্য ভারতবর্ষে খুবই দরদের সাথে পাঠ করা হয়। তিনি যা-ই লিখেন—হৃদয়ের আন্তরিক দরদ মিশিয়ে পাঠকের হৃদয়কে নাড়া দেবার মতো করেই লিখেন। আর অনুবাদকের নাম অনুবাদক হিসেবে খুব একটা পরিচিত না হলেও তিনি যে চমৎকার অনুবাদ করেন, তার দেখা বইটির পাঠে-পাঠে জরুর মিলবে! হজের সফর নিয়ে গত এক শতাব্দীর ভেতর অসংখ্য বইপত্র লেখা হয়েছে। কিন্তু হৃদয়ের আবেগ, প্রজ্ঞাপূর্ণ মনীষা ও সুনিপুণ গদ্যে লেখা অল্প যে কয়টি সফরনামা আছে, তার মধ্যে সফরে হিজায সব সময়ই প্রথম সারিতে থাকবে। হজের সফরে অপেক্ষমাণ কোনো কাবাপ্রেমিক অথবা হজের সফর থেকে ফিরে আসা কোনো সম্মানিত হাজি—যেকোনো কাবাপ্রেমিক মানুষের জন্যই এ গ্রন্থের পাঠ অপরিহার্য। হজের সফর নিয়ে এ যাবৎকালে লেখা সবচেয়ে আশ্চর্যসুন্দর এই গ্রন্থটিতে আপনাকে স্বাগতম। এর পাঠে-পাঠে দেখা মিলবে শত বছরের পুরনো হজযাত্রার, শহর মক্কা-মদিনার এবং শতবর্ষ আগে কাবার পথযাত্রীদের হৃদয়ের দুরুদুরু বিহ্বলতার।
পৃথিবীর প্রতিজন মুমিন ও মুসলিমের চির আকাঙ্ক্ষিত এক বাসনা পবিত্র হজের সফর। দুনিয়ার সমস্ত প্রান্ত থেকে শত শত বছর ধরে লাখো-কোটি মুসলিম নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে হাজিরা দেন কাবার প্রাঙ্গণে। মুখরিত হয়ে ওঠে তাদের মুখ ও হৃদয়ের ধ্বনি—লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। আবার হজ শেষে দেশে ফিরে সেই পবিত্র সফরের স্মৃতিকে নিয়ে তাদের মধ্যে থাকে বিহ্বলতা, প্রিয়জনকে শোনানোর গভীর আকুতি। তাদের কেউ কেউ হৃদয়ের সবটুকু আবেগ-বিহ্বলতা দিয়ে সফরনামাও লিখতে বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় ভারত উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদি রাহি. তার পবিত্র হজের ভ্রমণবৃত্তান্ত নিয়ে লিখেছেন—সফরে হিজায। বইটি লেখার প্রায় এক শতাব্দীকাল পেরিয়ে গেছে! তখন যেহেতু এরোপ্লেন-জাতীয় কিছুতে সফর এত সহজলভ্য ছিল না, তাই লেখককে বোম্বে থেকে সমুদ্রপথে হজের সফরে যেতে হয়েছিল। শতবর্ষ আগের জাহাজপথে দীর্ঘ যাত্রার ভ্রমণ, সেই সাথে পবিত্র কাবাকে দেখার তীব্র এক মন-কেমন করা অনুভূতি, আবার হজশেষে প্রিয়তম কাবাকে রেখে আসা—সব মিলেমিশে এই দার্শনিক সফরনামাটি হয়ে উঠেছে অনন্য এক ক্লাসিক! শতাব্দীকাল আগের এই হজের সফরনামা শুধু একটি সফরনামাতেই সীমাবদ্ধ নয়! বরং এরও বাইরে বইটি হয়ে উঠেছে শতবর্ষ পুরোনো ইতিহাসের এক প্রামাণ্য দলিল। তখনকার মানুষেরা কিভাবে হজে যেত, তাদের সাথে সৌদি সরকারের আচরণনীতি, পবিত্র মক্কা-মদিনার পথঘাট এবং পবিত্র মসজিদগুলোর তখনকার জৌলুস কেমন ছিল, তাও বিবৃত হয়েছে একজন প্রত্যক্ষ ইতিহাসবিদের হাতে। সাইয়েদ সুলাইমান নদভি রাহি. বইটি সম্পর্কে লিখেন—’এ সফরনামার আসল সৌন্দর্য ও প্রকৃত মর্যাদার বিষয় দুটি : এক. শিল্পকুশলতা। লেখক বইয়ে সাবলীলতার পূর্ণ সৌন্দর্য সফলভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন—সহজ শব্দ, সাবলীল বাক্যগঠন, এরপর কাব্যিক কল্পনার মিশ্রণে। এজন্য সাহিত্যের আঙ্গিকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। দুই. সেসব উপলব্ধি ও অভিব্যক্তি, যা কিতাবের ছত্রে ছত্রে পরিলক্ষিত হয়। মনে হয়, অনুভূতিপ্রবণ লেখক কাগজের বুকে হৃদয় নিংড়ে সবটাই পাঠকের সামনে পরিবেশন করে দিয়েছেন। আমি এটাও হিজায সফরেরই বরকত মনে করি, তার কলম দিলের দোভাষীর ভূমিকা পালন করেছে।’ হজের সফরের বর্ণনার পাশাপাশি লেখক যাত্রাপথে যা দেখেছেন, দেখতে দেখতে ভাবনায় যা এসেছে এবং মদিনার অলিগলিতে রাসুলের স্মৃতিধন্য শহরে হাঁটতে গিয়ে আরও যা যা ভেবেছিলেন, সেসব ভাবনাদের হৃদয়ের সব ব্যাকুলতা দিয়ে তিনি তুলে এনেছেন বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে। প্রিয়তম রাসুলের শহরে হাঁটতে গিয়ে লেখকের হৃদয়ে অলৌকিক যেসব অনুভূতি হয়েছে, হয়তো তা যেকোনো মুমিনের জন্যও স্বাভাবিক! কিন্তু লেখনীর ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে পারার যে অনন্যতা—তা কজনের থাকে! সফরে হিজাযের আশ্চর্য দীপ্তিময়তার অনেকটা ঠিক এখানেও ফুটে এসেছে—লেখকের বর্ণনাভঙ্গি আর হৃদয়গ্রাহী এক গদ্যের মিশেলে। মূল বইটি লেখা হয়েছিল উরদুতে। মলাটবদ্ধ হওয়ার আগে অবশ্য ধারাবাহিকভাবে পত্রিকাতেও ছাপা হয়েছিল। দরিয়াবাদি রাহি.-এর উরদু গদ্য ভারতবর্ষে খুবই দরদের সাথে পাঠ করা হয়। তিনি যা-ই লিখেন—হৃদয়ের আন্তরিক দরদ মিশিয়ে পাঠকের হৃদয়কে নাড়া দেবার মতো করেই লিখেন। আর অনুবাদকের নাম অনুবাদক হিসেবে খুব একটা পরিচিত না হলেও তিনি যে চমৎকার অনুবাদ করেন, তার দেখা বইটির পাঠে-পাঠে জরুর মিলবে! হজের সফর নিয়ে গত এক শতাব্দীর ভেতর অসংখ্য বইপত্র লেখা হয়েছে। কিন্তু হৃদয়ের আবেগ, প্রজ্ঞাপূর্ণ মনীষা ও সুনিপুণ গদ্যে লেখা অল্প যে কয়টি সফরনামা আছে, তার মধ্যে সফরে হিজায সব সময়ই প্রথম সারিতে থাকবে। হজের সফরে অপেক্ষমাণ কোনো কাবাপ্রেমিক অথবা হজের সফর থেকে ফিরে আসা কোনো সম্মানিত হাজি—যেকোনো কাবাপ্রেমিক মানুষের জন্যই এ গ্রন্থের পাঠ অপরিহার্য। হজের সফর নিয়ে এ যাবৎকালে লেখা সবচেয়ে আশ্চর্যসুন্দর এই গ্রন্থটিতে আপনাকে স্বাগতম। এর পাঠে-পাঠে দেখা মিলবে শত বছরের পুরনো হজযাত্রার, শহর মক্কা-মদিনার এবং শতবর্ষ আগে কাবার পথযাত্রীদের হৃদয়ের দুরুদুরু বিহ্বলতার।

